অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন তথ্য যাচাই ও সনদ ডাউনলোড করুন

বর্তমান জীবন ব্যবস্থায় বিভিন্ন কাজে জন্ম নিবন্ধন সনদ প্রয়োজন। বর্তমানে, বাংলাদেশে দুই ধরনের জন্ম নিবন্ধন সনদ পাওয়া যায় (আগে হাতে লেখা জন্ম নিবন্ধন এবং অনলাইন তথ্য সম্বলিত জন্ম সনদ)। তাছাড়া তথ্যপ্রযুক্তির উন্নতির ফলে যে কেউ ভুয়া জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরি করে বিভিন্ন জায়গায় জালিয়াতি করতে পারে। তাই, এখন অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন সনদ যাচাই ও চেক করার সুবিধাও রয়েছে।

তাছাড়া যে কেউ যেকোনো প্রয়োজনে অনলাইনে তাদের জন্ম নিবন্ধন তথ্য যাচাই করতে পারে। সুতরাং, খুব সহজেই আপনার কাঙ্খিত জন্ম নিবন্ধন সনদ ডাউনলোড করার পাশাপাশি অনলাইন জন্ম নিবন্ধন চেক এবং যাচাইকরণ পদ্ধতি জেনে নিন। পোস্টটি ইংরেজীতে পড়ুন: Birth Certificate Check Online.

জন্ম নিবন্ধন সনদ

এখানে একটি আসল জন্ম নিবন্ধন সনদ এর ছবি রয়েছে। এই জন্ম নিবন্ধন সনদপত্রের শনাক্তকরণ নম্বর ব্যবহার করে, আমরা অনলাইনে উপলব্ধ তথ্য ও অবস্থা পরীক্ষা করব এবং এটি আসল না জাল তা যাচাই করব৷ পাশাপাশি আমরা (BangladeshGov.Org) অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন সনদ তথ্য বের করা এবং যাচাইকরণ নিয়ে আলোচনা করব।

জন্ম নিবন্ধন সনদ

এই জন্ম নিবন্ধনের ধারক জনাব এ-এর মতে, জন্ম সনদটি তার স্থানীয় পৌরোসোভায় তৈরি করেছিলেন। এই তথ্য অন্তর্ভুক্ত করার জন্য তিনি অনলাইনে কোনো জন্ম নিবন্ধন আবেদন করেননি। কিন্তু তারপরও, তার জন্ম নিবন্ধন সনদের তথ্য everify.bdris.gov.bd ওয়েবসাইটে অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে।

অনলাইন জন্ম নিবন্ধন যাচাইয়ের গুরুত্ব

সাধারণত, জন্ম নিবন্ধনটি ১৮ থেকে ২০ বছরের কম বয়সী যাদের জাতীয় পরিচয়পত্র নেই তাদের জন্য ব্যবহার করা হয়। যা তাদের পরিচয়পত্র হিসেবে কাজ করে ও তাতে তাদের নাম, পরিচয়, ঠিকানা এবং বয়স চিহ্নিত করে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি ও ই-পাসপোর্ট আবেদন এর জন্য মূলত এই বয়সের জন্ম শংসাপত্র প্রয়োজন।

যেহেতু, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া এবং ই-পাসপোর্ট দুটোই খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই, কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই প্রার্থীদের আবেদনের তথ্যের সঠিকতা যাচাই করতে হবে। এই ক্ষেত্রে, যাচাইকারীদের “নিবন্ধক জেনারেলের কার্যালয়, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন”-এ গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে না। তাই জন্ম সনদ তথ্য পরীক্ষায় অপ্রয়োজনীয় সময় নষ্ট হয় না। এটি সুবিধাজনক এবং গুরুত্বপূর্ণ কারণ অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন চেক করার একটি বিকল্প রয়েছে এবং যাচাইকরণে মাত্র ১ মিনিট সময় লাগে৷

এছাড়াও, জন্ম নিবন্ধন হল জাতীয় পরিচয়পত্রের আবেদন করার জন্য বয়স যাচাইকরণের প্রধান নথি। অধিকন্তু, জন্ম নিবন্ধন হল যেকোনো আবেদনের প্রধান পরিচয় নথি যেমন একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন, ১৮ বছর বয়সে মেয়েদের বিবাহ নিবন্ধন ইত্যাদি।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল যে কেউ প্রয়োজনে তার জন্ম নিবন্ধনের তথ্য অনলাইনে যাচাই করতে পারে এবং প্রয়োজনে জন্ম সনদ ডাউনলোডও করতে পারে।

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন চেক করার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য

একটি জন্ম নিবন্ধন সনদ ব্যক্তিগত তথ্য সম্বলিত একটি পরিচয় নথি। তাই, প্রয়োজনীয় তথ্যাদি ছাড়া, কেউ কারো জন্ম নিবন্ধন তথ্য যাচাই করতে পারবে না। এই ক্ষেত্রে, অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন চেক করতে ২টি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত তথ্যের প্রয়োজন৷ যেগুলো হলো-

  • জন্ম নিবন্ধন নম্বর যা সাধারণত ১৭ সংখ্যার হয়
  • জন্ম তারিখ

দ্রষ্টব্য: নাম এবং ঠিকানা দ্বারা জন্ম নিবন্ধন সনদ যাচাই করা বা তথ্য বের করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। কিন্তু আপনি যদি আপনার নিবন্ধন নম্বর না জানেন তাহলে নিকটস্থ পৌরসভা বা ইউনিয়ন কাউন্সেলিং অফিসে যোগাযোগ করুন।

কিভাবে অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন যাচাই করবেন?

“স্থানীয় সরকার বিভাগ” https://everify.bdris.gov.bd/ এর মাধ্যমে সবার জন্য জন্ম ও মৃত্যু সনদ যাচাইয়ের অনলাইন সেবা উন্মুক্ত করেছে। আশা করি আপনি আপনার জন্ম নিবন্ধন সনদ নম্বর এবং জন্ম তারিখ জানেন। সুতরাং, কিভাবে verify bdris gov bd থেকে জন্ম নিবন্ধন যাচাই করবেন তা ধাপে ধাপে নিচে দেওয়া হলো।

ওয়েব পেজটি খুলুন https://everify.bdris.gov.bd/ এবং এটি সম্পূর্ণ লোড হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।

উক্ত পেজে, আপনি ‘জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট নম্বর‘, ‘জন্ম তারিখ‘ এবং ‘ম্যাথ এনসার‘ নামে তথ্য প্রদানের জন্য ৩টি ঘর দেখতে পাবেন। সেগুলোর যথাস্থানে জন্ম নিবন্ধন নম্বর, জন্মের সঠিক তারিখ এবং সেই ম্যাথের ঘরে প্রদর্শিত ছবিতে দেওয়া নম্বরের উত্তর দিন। তারপর সার্চ বাটনে ক্লিক করুন।

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন যাচাই

  • আপনার দেওয়া তথ্য সঠিক হলে, আপনি পরবর্তী পৃষ্ঠায় জন্ম নিবন্ধন তথ্যের বিশদ বিবরণ দেখতে পারেন। মনে রাখবেন যে তথ্য প্রদর্শনের ধরণ ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে পরিবর্তিত হতে পারে।

জন্ম নিবন্ধন তথ্য

  • আপনি উপরে উল্লিখিত এই সহজ পদক্ষেপগুলি অনুসরণ করে যে কোনও সময় অনলাইনে আপনার জন্ম নিবন্ধন সদনের তথ্য যাচাই করতে পারেন।

জন্ম নিবন্ধনের তথ্য অনুপস্থিত বা আংশিক তথ্য থাকলে কী করবেন?

সাধারণত, অনলাইনে জন্ম সনদ পাওয়া গেলেও তাতে সমস্ত তথ্য পাওয়া যায় (এমনকি জন্ম সনদ অনলাইনে নিবন্ধিত না হলেও)। কিন্তু যদি কোনো কারণে আপনার তথ্য everify.bdris.gov.bd সাইটে পাওয়া না যায় তাহলে আপনার করণীয়-

  • প্রথমত, আপনার জন্ম নিবন্ধন নম্বর এবং জন্ম তারিখ সঠিক কিনা তা নিশ্চিত করুন। কারণ, জন্ম সনদ নম্বর এবং জন্মতারিখ সঠিকভাবে না মিললে আপনার তথ্য প্রদর্শিত হবে না।
  • সঠিক রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং জন্মতারিখ দেওয়ার পরেও যদি আপনার তথ্য না পাওয়া যায়, তাহলে আপনার নিকটস্থ পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদের সাথে যোগাযোগ করুন এবং নিশ্চিত হন যে আপনার জন্ম নিবন্ধন তথ্য তাদের অনলাইন ডাটাবেজে প্রবেশ করানো হয়েছে কিনা। যদি অনলাইনে তথ্য প্রবেশ করা না থাকে, তাহলে আপনার বিস্তারিত তথ্য আপডেট করুন। যদি প্রয়োজন হয়, একটি নতুন জন্ম নিবন্ধন সনদের জন্য আবেদন করুন (নতুন জন্ম নিবন্ধন আবেদন) অথবা ইংরেজিতে আপনার জন্ম নিবন্ধন সনদ নিন৷
  • এছাড়াও, যদি আপনার জন্ম নিবন্ধন সনদের তথ্য verify.bdris.gov.bd এ অসম্পূর্ণ প্রদর্শিত হয়, তাহলে আবার চেষ্টা করুন। কারণ, অনেক সময় সার্ভারের সমস্যার কারণে তথ্য প্রদর্শন পৃষ্ঠা পুরোপুরি লোড হয় না। আংশিক তথ্য দীর্ঘ সময় বা বারবার প্রদর্শিত হলে, আপনার ওয়েব ব্রাউজার পরিবর্তন করুন এবং আবার চেষ্টা করুন।

জন্ম নিবন্ধন সনদ ডাউনলোড করুন

জরুরীভাবে জন্ম নিবন্ধন সনদ প্রয়োজন এবং আপনার কাছে আসল কপি নেই। আপনি কি অনলাইনে আপনার জন্ম নিবন্ধন কপি ডাউনলোড করার কথা ভাবছেন? হ্যাঁ! এই ক্ষেত্রে, কর্তৃপক্ষ (যেখানে আপনি এটি ব্যবহার করেন) অনুমতি দিলে আপনি জরুরি প্রয়োজনে অনলাইন কপি ব্যবহার করতে পারেন।

উপরে আমরা জন্ম নিবন্ধন যাচাই করার পদ্ধতি বর্ণনা করেছি। আপনি সেই পদ্ধতি অনুসরণ করে আপনার জন্ম নিবন্ধন সনদ পেয়ে থাকতে পারেন। কিন্তু কোন ডাউনলোড বাটন বা ডাউনলোড অপশন পাচ্ছেন না? এই ক্ষেত্রে, মনে রাখবেন যে অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন ডাউনলোড করার কোন বিকল্প নেই। তাই, আপনি পৃষ্ঠাটি প্রিন্ট করতে পারেন।

যাইহোক, যখন আপনি আপনার তথ্য চেক করেন, জন্ম নিবন্ধনের তথ্য যেভাবে প্রদর্শিত হয় তা আসলে অনলাইন কপি। আপনি যদি জন্ম নিবন্ধন সনদটি ডাউনলোড করতে চান তবে একটি স্ক্রিনশট নিন বা পুরো ওয়েবপৃষ্ঠাটি HTML বা PDF হিসাবে সংরক্ষণ করুন (যদি উপলব্ধ থাকে)।

  • মোবাইল (Android) থেকে স্ক্রিনশট নিতে ডাউন ভলিউম বোতাম + লক বোতাম একসাথে টিপুন।
  • কম্পিউটার থেকে একটি স্ক্রিনশট নিতে কীবোর্ডের উপরের সারিতে “প্রিন্ট স্ক্রিন Sys Rq” বোতামে ক্লিক করুন। তারপর স্টার্ট মেনু থেকে “পেইন্ট” টুলটি খুলুন এবং “Ctrl + v” টিপুন। সম্পূর্ণ স্ক্রিনশট থেকে জন্ম নিবন্ধনের প্রয়োজনীয় অংশটি ক্রপ করুন এবং ফাইল মেনু থেকে JPEG ফর্ম্যাট হিসাবে সংরক্ষণ করুন।

দ্রষ্টব্য: আপনার কাছে পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদের জন্ম নিবন্ধনের একটি অনুলিপি থাকলে, এটি সর্বত্র ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

উপসংহার

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন যাচাই করা একটি সহজ পদ্ধতি। বিশ্বের যে কোনো প্রান্ত থেকে যে কেউ শুধুমাত্র ব্যক্তিগত শনাক্তকরণ নম্বর এবং জন্ম তারিখ ব্যবহার করে জন্ম নিবন্ধন তথ্য যাচাই করতে পারেন। এ জন্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে https://everify.bdris.gov.bd ওয়েবসাইট দেওয়া হয়েছে। এই ক্ষেত্রে, আমরা অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন যাচাই সংক্রান্ত সমস্ত সমস্যা এবং পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করেছি। আশা করি আপনি এই আলোচনায় আপনার জন্ম নিবন্ধন যাচাই সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য পেয়েছেন।

“অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন তথ্য যাচাই ও সনদ ডাউনলোড করুন”-এ 11-টি মন্তব্য

    • আমার জন্ম তারিখ পরিবর্তন করে বয়স কমাতে চাই সেটা সম্ভব কিভাবে? যেমন বর্তমান জন্ম সনদ অনুযায়ী ১৫/১২/২০০২ লিখা আছে তার পরিবর্তে ১৫/১২/২০০৬ করতে চাই।

      জবাব
      • এটা বর্তমানে সম্ভব না। সঠিক ডকুমেন্টস প্রদান করলে আপনার তারিখ ও মাস পরিবর্তন হবে কিন্তু জন্ম সাল পরিবর্তন বর্তমানে বন্ধ আছে। আপনার ২০০৬ এর জন্ম অনুযায়ী ডকুমেন্টস থাকলে নিকটস্থ কার্যালয়ে যোগাযোগ করে দেখতে পারেন।

        জবাব
  1. আমার বোনের জন্মনিবন্ধন হারিয়ে গেছে।
    বাড়ির ঠিকানা,বাবার নাম, উপজেলা এইমসব ব্যবহার করে কী কোনো ভাবে জন্মনিবন্ধন বের করা যাবে?
    দয়া করে জানাবেন প্লিজ

    জবাব
    • জন্ম নিবন্ধন নম্বর ও জন্ম তারিখ জানা থাকলে অনলাইন থেকে বের করতে পারবেন। যদি জানা না থাকে তাহলে নিকটস্থ পৌরসভা বা ইউনিয়ন কাউন্সিল অফিসে যোগাযোগ করেন। তারা আপনাকে সাহায্য করবে।

      জবাব
  2. স্যার আমি জন্মনিবন্ধনের ইংরেজি নামগুলো সংশোধন করতে দিছি এবং সংশোধন হইছে।আমার নাম: MD. ASRAFUL ISLAM কিন্তু ওখানে MD এর পরে কোনো(.) ডট নাই এবং বাবার নাম :MD. REZAUL BAPARI ওখানেও কোনো (.) ডট নেইএবং আমার মাতার নাম: MST. ASIA BEGUM ওখানেও MST এর পরে কোনো (.)ডট নাই! এখন কিভাবে(.) ডট গুলো দিবো।

    জবাব
    • আপনি যখন অনলাইনে নাম সংশোধনের আবেদন করেছেন, তখন MD এর পরে “.” ডট দেননি? যদি দিয়ে থাকেন তাহলে তো কোনো সমস্যা হওয়ার কথা না। আর যদি MD এর পরে ডট নাও থাকে তাও সমস্য হবার কথা না। ডট থাকা না থাকাতে কিছু আসে যায় না। যেমন পাসপোর্টে নামের সাথে কোনো ডট থাকেনা।

      জবাব

মন্তব্য করুন